পরিশিষ্ট
১- অবশিষ্ট: ইমাম হাকিম রহ. হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন “হাদীসটির সনদ সহীহ।”
অনুরূপভাবে হাফেয যাহাবী রহ. ও বলেছেন: “এর সনদ সহীহ। যারা এটিকে সহীহ বলে না তাদের কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না।”
ইমাম দারাকুতনী রহ. হাদীসটির ব্যাপারে বলেন: “এর সকল বর্ণনা কারী নির্ভরযোগ্য। তবে হাদীসটি মওকুফ এটাই হল সঠিক।”
দ্রষ্টব্য: সুনানে দারাকুতনী ১/৮০ নসবুর রায়া ১/১৫১ ইলাউস সুনান ১/৩১৮-৩১৯ আছারুস সুনান পৃষ্ঠা-৪৮ আল্লামা নিমাভী রহ. তাঁর “আছারুস সুনান” নামক কিতাবে ইমাম দারাকুতনীর রহ. উপরোক্ত মন্তব্যের শেষ অংশকে সঠিক নয় বলে প্রমাণ করেছেন। যার সার সংক্ষেপ হল: হাদীসটিকে মারফূ (রাসূলের বর্ণনা) হিসেবে বর্ণনাকারী উসমান ইবনে মুহাম্মাদ একজন নির্ভরযোগ্য রাবী। (দ্রষ্টব্য: তাহযীবুত্তাহযীব ৫/৫১২-৫১৩) আর হাদীসের নীতিমালা অনুসারে এমন ব্যক্তির বর্ধিত করণ গ্রহণযোগ্য। (দ্রষ্টব্য: তাদরীবুর রাবী ২/৪৫) তাছাড়া আলোচ্য মারফু ও মওকুফ, রিওয়ায়াতের বিষয়বস্তুর মাঝেও বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। কাজেই, একটিকে অপরটির বিরোধী বলে মওকুফকে সঠিক ও মারফুকে সঠিক নয় বলাও সঠিক নয়।
২- অবশিষ্ট: অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করা হয়েছে নিম্নের কিতাব সমূহে: আবূদাউদ শরীফ হাদীস নং (৪২৪) নাসাঈ শরীফ হাদীস নং (৫৪৮) ও (৫৪৯) ইবনে মাজাহ শরীফ হাদীস নং (৬৭২) সহীহে ইবনে হিব্বান ৩/১৮ (১৪৮৬)
ইবনে হিব্বানের এক বর্ণনা নিম্নরূপ “তোমরা ফজরকে যতই আলোকোজ্জ্বল করে পড়বে ততই তোমাদের ছাওয়াব বাড়বে”।
ইমাম সাঈদ ইবনুল কাত্তান রহ. তার “কিতাব” নামক গ্রন্থে বলেন: “হাদীসটির তরীক (সূত্র) সহীহ”। দ্রষ্টব্য: নসবুর রায়া ১/৩০৪
৩- অবশিষ্ট: ইমাম তিরমিযী রহ. হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন:
ہذا حدیث حسن صحیح
অনুরূপ ভাবে শায়েখ শুয়াইব আল আরনাউত মুসনাদে আহমাদের টীকাতে বলেন:
إسنادہ صحیح علی شرط مسلم ‘ رجالہ ثقات رجال الشیخین غیر عبد الحمید بن جعفر ‘ فمن رجال مسلم .
অর্থাৎ, ইমাম মুসলিমের রহ. শর্ত অনুযায়ী হাদীসটির সনদ সহীহ এর, সকল বর্ণনাকারী (সিকাত) এবং বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফের বর্ণনাকারী, শুধুমাত্র আব্দুল হামীদ ইবনে জাফর নামক একজন রাবী ব্যতীত, তবে তিনিও মুসলিম শরীফের রাবী। তাছাড়া ইমাম ইবনে খুযাইমা রহ. কর্তৃক হাদীসটিকে তার “সহীহ” নামক কিতাবে ও ইবনুল জারুদ রহ. কর্তৃক তাঁর “আল মুনতাকা” নামক কিতাবে উল্লেখ করার দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, হাদীসটি তাদের নিকটেও সহীহ। সুতরাং এই হাদীসের রাবীদ্বয় মুহাম্মদ ইবনে আতা ও আব্দুল হামীদ ইবনে জাফর এর ব্যাপারে যারা কিছুটা আপত্তি তুলেছেন তাদের আপত্তি সঠিক নয়। বিস্তারিত জানার জন্য দ্রষ্টব্য: আল জাউহারুন্নাকী ফিররাদ্দি আলাল বাইহাকী ২/৭২
৪- অবশিষ্ট: ইমাম হাকিম রহ. তার “মুসতাদরাক” নামক কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন: হাদীসটির সনদ সহীহ। তবে বুখারী রহ. ও মুসলিম রহ. তাদের কিতাবে হাদীসটি উল্লেখ করেননি। আল্লামা যাহাবী রহ. ও তার তালখীসুল মুসতাদরাকে হাকিমের উপরোক্ত বক্তব্যের স্পষ্ট সমর্থন দান করেছেন।
দ্রষ্টব্য: মুসতাদরাক ও তার টীকা ১/৪৭৯ এছাড়াও বিশিষ্ট তাবেঈ মুহাম্মাদ ইবনে শিরীন রহ. থেকে একটি মুরসাল হাদীসে বর্ণিত আছে যে, হযরত সাহাবায়ে কিরাম রাযি. নামাযের মধ্যে যখন এদিক সেদিক তাকাতেন। তখন নিম্নের আয়াত দুটো অবতীর্ণ হয়।
( قد أفلح المؤمنون ) (الذین ہم فی صلاتہم خاشعون.)
অর্থাৎ “সে সকল মুমিন সফল কাম হয়েছে, যারা নামাযে খুশু খুজু অবলম্বন করেছে।” তখন তারা নামাযের প্রতি পূর্ণ মনোনিবেশ করেন। এবং নিজেদের সম্মুখে নজর রাখেন। এবং সিজদার স্থান থেকে নজর হটিয়ে নেওয়াকে পছন্দ করতেন না। দ্রষ্টব্য ফাতহুল বারী ২/২৭৩,হাদীস নং (৭৫০)
৫- অবশিষ্ট: সহীহে ইবনে হিব্বান দ্রষ্টব্য: আল ইহসান ৩/১০৩-১০৪(১৭৭৩), সুনানে বাইহাকী ২/২৭ (৩১৭) সুনানে নাসাঈ (কুবরা) ১/৩০৮ (৯৫৭) সুনানে আবূদাউদ তয়ালেসী ১/১২৫ হাদীসটি সহীহ, ইমাম হাকিম হাদীসটি বর্ণনার পর বলেন হাদীসটির সনদ সহীহ কিন্তু ইমাম বুখারী রহ. ও মুসলিম রহ. হাদীসটিকে তাদের কিতাবে আনেননি। হাফেয যাহাবী রহ. ও হাকিমের কথার সমর্থন করেছেন। এ ছাড়াও ইমাম ইবনে খুযাইমা ও ইমাম ইবনে হিব্বান তাঁদের “সহীহ” নামক কিতাবে হাদীসটিকে উল্লেখ করে তা সহীহ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
৬- অবশিষ্ট: ইমাম তিরমিযীরহ. হাদীসটি বর্ণনার পর বলেন:
حدیث ہلب حدیث حسن و العمل علی ہذا عند اہل العلم من أصحاب النبی ۔ ﷺ ۔ والتابعین و من بعدہم .
অর্থাৎ, হাদীসটি হাসান। এবং সাহাবায়ে কিরাম রাযি. ও তাবেঈনদের রহ. আমল এর উপরই। ইবনে মাজার মুহাক্কিক মাহমুদ মুহাম্মদ বলেন: الحدیث حسن صحیح শায়েখ শুআইব আল আর নাউত মুসনাদে আহমাদের টীকায় বলেন এই হাদীসটি صحیح لغیرہ যদিও এ সনদটি ضعیف
৭- অবশিষ্ট: আবূদাউদ শরীফ হাদীস নং (৭৫৫) নাসাঈ শরীফ হাদীস নং (৮৮৭) এই হাদীসটির ব্যাপারে ইবনে সাইয়িদুননাস রহ. বলেন رجالہ رجال الصحیح ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন এ সনদ হাসান। নাইলুল আউতার ২/১৯০
৮- অবশিষ্ট: তিরমিযী শরীফের ব্যাখ্যাকার শায়েখ মুহাম্মদ আবূ তায়্যিব বলেছেন: فہذا حدیث صحیح سندا ومتنا অর্থাৎ হাদীসটি সনদ মতন উভয় দিক দিয়েই সহীহ এবং এর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করা যাবে। দ্রষ্টব্য: ইলাউস সুনান ২/১৯৭, হাফেয কাসেম ইবনে কুতলুবুগা রহ. তাঁর “তাখরীজে আহাদীসিল ইখতিয়ার” গ্রন্থে বলেছেন ہذا سند جید অর্থাৎ, হাদীসটির সনদ উত্তম। এবং শায়েখ আবেদ সিন্দী রহ. বলেছেন رجالہ ثقات (এর বর্ণনাকারী সকলেই নির্ভরযোগ্য।) দ্রষ্টব্য: আছারুসসুনান পৃষ্ঠা-৯০
উল্লেখ্য যে, এখানে প্রশ্ন হতে পারে যে, হাদীসটির শেষ শব্দ (تحت السرۃ) মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবার কোন কোন নুসখাতে পাওয়া যায় না। যদি তাই হয় তাহলে এ হাদীস কি করে প্রমাণ যোগ্য হবে?
এর জবাবে বলব যে, অধিকাংশ নুসখাতে এ শব্দটি বিদ্যমান। যেমন: আল্লামা কায়েম সিন্দী রহ. তাঁর রিসালা “ফাউযুল কিরামে” বলেছেন: “যেখানে আল্লামা কাসেম ইবনে কুতলুবুগার ন্যায় এমন বিদগ্ধ মুহাদ্দিস হাদীসটিকে উক্ত শব্দ সহ নিশ্চিত রূপে মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবার বরাতে উল্লেখ করেছেন, আর আমি নিজেও শব্দটি একটি নুসখাতে দেখেছি, এবং এটা শায়েখ মুফতী আব্দুল কাদেরের খিযানাতে সংরক্ষিত নুসখাতেও বিদ্যমান আছে সেখানে এ শব্দটিকে ভুল বলা ইনসাফের কথা নয়। তিনি আরো বলেন যে, এ শব্দটি আমি স্বচক্ষে এমন বিশুদ্ধ নুসখাতে দেখেছি যে নুসখাতে বিশুদ্ধ হওয়ার নিদর্শন ছিল। এবং অধিকাংশ বিশুদ্ধ নুসখাতেই এটা রয়েছে।
দ্রষ্টব্য: আছরুস্সুনান পৃষ্ঠা-৯০ আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, শব্দটি কোন কোন নুসখাতে না থাকার কারণে এটা থাকার সম্ভাবনা দুর্বল, তবে আমরা বলব যে, এ শব্দ সম্বলিত একাধিক মারফূ, মওকুফ ও মাকতু হাদীস থাকার কারণে একথা জোর দিয়ে বলা যেতে পারে যে, বাস্তবেই শব্দটি হাদীসে বিদ্যমান আছে। এ অধ্যায়ে উল্লেখিত অপর হাদীস খানা সে সকল সমর্থনকারী হাদীস সমূহেরই একটি।
৯- অবশিষ্ট: জ্ঞাতব্য: হাদীসটির সনদের মধ্যে আকুরে রহমান ইবনে ইসহাক নামে একজন বর্ণনাকারী আছে। অনেক মুহাদ্দিস তাকে যঈফ বললেও মারাত্মক যঈফ কেউ বলেননি। উপরন্তু শায়েখ ইজলী রহ. ও আবূ হাতেম রহ. তাকে হাদীস লেখার যোগ্য বলে উল্লেখ্য করেছেন। দ্রষ্টব্য: তাহযীবুত্তাহযীব ৬/১৩৬-১৩৭, যার অর্থ হল সমার্থবোধক কোন شاہد বা متابع পাওয়া গেলে তা দ্বারা প্রমাণ পেশ করা যাবে। আর বাস্তবেও এ হাদীসের একাধিক শাওয়াহেদ রয়েছে। যেমন: আবূ মিজলায তাবেঈ রহ. থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল যে, নামাযে হাত কিভাবে রাখবে? তিনি জবাব দিলেন যে, ডান হাতের পেট বাম হাতের পিঠের উপর রাখবে এবং উভয় হাতকে নাভীর নিচে রাখবে।
দ্রষ্টব্য: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১/৩৪৩ (৩৯৪২) সুনানে আবূদাউদ ১/৪৮০ (৭৫৭) হাদীসটির সনদ জায়্যিদ, হাসান। তেমনিভাবে বিশিষ্ট তাবেঈ ইবরাহীম নাখঈ রহ. থেকেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।
দ্রষ্টব্য: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১/৩৪২, (৩৯৩৯) হাদীসটির সনদ হাসান। দ্রষ্টব্য: ইলাউস্ সুনান ২/১৯২
১০- অবশিষ্ট: মুস্তাদরাক ১/২৩৫ (৮৫৯) ইমাম হাকিম রহ. হাদীসটি বর্ণনার পর বলেন যে, হাদীসটির সনদ সহীহ। তবে ইমাম বুখারী রহ. ও মুসলিম রহ. হাদীসটিকে তাঁদের কিতাবে আনেননি। তিনি আরো বলেন, প্রিয় নবী ﷺ এর নামায শুরু করার সময় সুবহানাকা--- পড়ার ব্যাপারে এর চেয়ে ও এর পূর্বে উল্লেখিত হাদীসটির চেয়ে বিশুদ্ধতম হাদীস আমার জানা নেই। তাছাড়া সহীহ সনদের মাধ্যমে প্রমাণিত আছে যে, হযরত উমর রাযি. এই সুবহানাকা ওয়ালা ছানা-----পড়তেন। (মুস্তাদরাক ১/২৩৫)
মোট কথা হাদীসটির সনদ সহীহ। এবং এ ব্যাপারে আরো অনেক হাদীস রয়েছে।
১১- অবশিষ্ট: সহীহে ইবনে হিব্বান দ্রষ্টব্য: আল ইহসান ৩/১০৪ (১৭৭৫), সহীহে ইবনে খুযাইমা হাদীস নং (৪৬৮), মুস্তাদরাক ১/২৩৫(৮৫৮), শরহুস সুনাহ্ ৩/৪৩, ইমাম হাকিম রহ. হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন ہذا حدیث صحیح الإسناد ولم یخرجاہ অর্থাৎ, হাদীসটির সনদ সহীহ। তবে বুখারী রহ. ও মুসলিম রহ. হাদীসটিকে, তাদের কিতাবে আনেননি। ইমাম যাহাবী রহ. ও বলেছেন হাদীসটি সহীহ। ইমাম ইবনে হিব্বান ও ইবনে খুযাইমা কর্তৃক হাদীসটিকে তাদের “সহীহ” নামক কিতাবে উল্লেখ করার দ্বারা বুঝা গেল হাদীসটি তাদের কাছেও সহীহ।
উল্লেখ্য যে, হাদীসটির সনদে “আমের ইবনে উমায়ের আল আনাযী” নামে একজন রাবী আছে। তার ব্যাপারে কেউ কেউ কিছুটা আপত্তি করলেও উল্লেখিত উলামায়ে কিরাম কর্তৃক হাদীসটি সহীহ বলে স্বীকৃতি দেয়ার দ্বারা বুঝা গেল যে, সে সকল আপত্তি তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসটি ছাড়াও একাধিক সাহাবায়ে কিরাম থেকে সহীহ ও হাসান সনদে মারফু ও মাউকুফ হাদীস রয়েছে, দ্রষ্টব্য: সুনানে দারাকুতনী ১/৩৫ (১১২৯), বাইহাকী শরীফ ২/৩৬(২৩৫৫)
১২- অবশিষ্ট: ইমাম হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন:
ہذا حدیث صحیح علی شرط الشیخین ولم یخرجاہ
অর্থাৎ, ইমাম বুখারী রহ. ও মুসলিম রহ. এর শর্ত অনুযায়ী ও এই হাদীসটি সহীহ। ইমাম যাহাবী রহ. ও বলেছেন হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত সম্বলিত। ইমাম দারাকুতনী রহ. বলেন ہذا صحیح ‘ رواتہ کلہم ثقات অর্থাৎ, হাদীসটি সহীহ। এবং এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য । অনুরূপভাবে ইমাম বাইহাকী রহ. ও হাদীসটি বর্ণনার পর বলেন و إسنادہ صحیح و لہ شواہد অর্থাৎ, এই সনদটি সহীহ। এবং এর শাওয়াহেদ আছে।
১৩- অবশিষ্ট: ইমাম ইবনে খুযাইমা, ইমাম ইবনে হিব্বান, ইমাম হাকেম প্রমূখ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। হাকিম তার “মুস্তাদরাক” নামক কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন: হাদীসটি ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্ত অনুযায়ী ও সহীহ্। আল্লামা যাহাবী রহ. হাকিমের এ মতকে সমর্থন করেছেন। ইমাম হাইসামী রহ. তাঁর “মাজমাউয্ যাওয়ায়েদ” নামক কিতাবে ২/১৩৫ (২৮০৭) হাদীসটির সনদকে হাসান বলেছেন।
১৪- অবশিষ্ট: সুনানে দারেমী ১/৩১৮ (১২৮২) শরহুস্ সুন্নাহ ৩/৯৩ (৬১৪) বাইহাকী ২/৮৫ (২৫৫১), ইমাম তিরমিযী রহ. হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন সাহাবী আবূ হুমাইদ রাযি. এর হাদীসটি হাসান সহীহ। অনুরূপ কথা আল্লামা বগভী রহ. ও তার “শরহুস্-সুন্নাহ্ নামক কিতাবের ৩/৯৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন। অত্র “শরহুস সুন্নাহ্” কিতাবের টীকায় শায়েখ শুয়াইব ও শায়েখ যুহায়ের বলেন: হাদীসটির সনদ হাসান।
১৫- অবশিষ্ট: এই হাদীসের সনদের মধ্যে “আতা ইবনে সায়েব রহ.” নামে একজন রাবী রয়েছে, যিনি একজন-- রাবী।
দ্রষ্টব্য: তাহযীবুল কামাল ১৩/৫৬-৫৯ তাহযীবুত তাহযীব ৭/১৮৫-১৮৬ তবে, তিনি শেষ বয়সে হাদীস বর্ণনায় কোন কোন ক্ষেত্রে ভুলের শিকার হতেন। আইম্মায়ে আসমায়ে রিজাল এমত পেশ করেছেন যে, প্রাথমিক জীবনে যারা তার নিকট থেকে হাদীস নিয়েছেন, তাদের হাদীস সহীহ। আর পরবর্তী জীবনে যারা তার থেকে হাদীস নিয়েছেন তাদের হাদীস বিবেচনা যোগ্য। আর বর্ণিত হাদীসের সনদে আতা রহ. এর ছাত্র হাম্মাম রহ. ও তার প্রাথমিক জীবনের ছাত্র। ইমাম তহাবী রহ.তার “শরহে মুশকিলিল আছারে” এটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। দ্রষ্টব্য: তুহফাতুল আখইয়ার বিতরতীবি শরহে মুশকিলিল আছার ১নং খণ্ড হাদীস নং (১৬১) শায়েখ শুয়াইবও মুসনাদে আহমাদের টীকায় এ কথাই বলেছেন। দ্রষ্টব্য: টীকা মুসনাদে আহমদ ২৮/৩১১ সুতরাং তাঁদের বক্তব্য মতে হাদীসটি সহীহ। তাছাড়া এ হাদীসের একাধিক متابعIشاہد রয়েছে।
১৬- অবশিষ্ট: বর্ণিত হাদীসটির বিষয় বস্তু সহীহ। যেমনটি ইবনে মাজাহ কিতাবের টীকায় মাহমুদ মুহাম্মদ বলেছেন। দ্রষ্টব্য: ইবনে মাজাহ (টিকা) ১/৪৮০ (৮৮৮) তবে, হযরত হুজাইফার রাযি. এ হাদীস খানা তিনটি সনদে বর্ণিত রয়েছে, তন্মধ্য হতে প্রতিটির সনদেই এক একজন বিতর্কিত রাবী রয়েছে।
১। যেই সনদে ইবনে মাজাহ রহ. হাদীসটি বর্ণনা করেছেন সেটিতে “ইবনে লাহইয়া” নামক একজন রাবী আছে। আইম্মায়ে কিরাম তার ব্যাপারে ভাল মন্দ উভয় ধরণের মতামতই দিয়েছেন।
২। যেই সনদে ইমাম ইবনে খুযাইমা ও দারাকুতনী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তাতে “মুহাম্মদ ইবনে আবী লাইলা” নামে একজন রাবী আছে। তিনি ও আইম্মায়ে জরাহ তা‘দীলের নিকট বিতর্কিত।
৩। যেই সনদে ইমাম তহাবী রহ. হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তাতে “মুজালিদ” নামে একজন রাবী আছে। তিনিও অনুরূপ বিতর্কিত। তবে একজন অপর জনের মাধ্যমে শক্তি অর্জন করায় হাদীসটি হাসান হয়ে প্রমাণযোগ্য হয়ে গেছে। তাছাড়া এবিষয়টি একাধিক সাহাবা রাযি. থেকে মারফুআন ও মওকুফান সহীহ সনদেও বর্ণিত আছে।
১৭- অবশিষ্ট: ইমাম ইবনে খুযাইমা রহ. তার “সহীহ” নামক কিতাবে (১/৩১৮) ইবনে হিব্বান রহ. তার “সহীহ” নামক কিতাবে, দ্রষ্টব্য: আল ইহসান ৩/১৪১(১৯০৮) হাকিম তার “আল মুসতাদরাক” নামক কিতাবে ১/২২৬ হাদীসটিকে “সহীহ” বলেছেন। এবং আল্লামা যাহাবীরহ. হাকিমের কথাকে সমর্থন করেছেন। ইবনুস সাকান রহ. ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
দ্রষ্টব্য: তালখীসুল হাবীর ১/২৫৪ ইবনু কাইয়িম আল জাউযিয়্যাহ রহ. ও বলেছেন “এটাই সহীহ”। দ্রষ্টব্য: যাদুল মাআদ ১/২২৩।
উল্লেখ্য যে, এই হাদীসের সনদের মধ্যে “শরীক” নামে একজন বর্ণনা কারী রয়েছে তার ব্যাপারে কোন কোন ইমামে হাদীস কালাম করেছেন। যেমন ইমাম দারা কুতনী রহ. তার “সুনান” নামক কিতাবে হাদীসটি নকল করার পর বলেছেন যে, আসেম ইবনে কুলাইব রহ. থেকে হাদীসটিকে এক মাত্র শরীকই বর্ণনা করেছেন। আর একক ভাবে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি মজবুত নন। দ্রষ্টব্য: সুনানে দারাকুতনী (৩/৩৪৪)
এর জবাব এই যে, আইম্মায়ে আসমায়ে রিজাল বলেছেন: শরীক শেষ জীবনে যদিও ভুল করতেন, কিন্তু যারা প্রথম জীবনে তার নিকট থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন তাদের হাদীস তার থেকে “সহীহ”। আর বর্ণিত হাদীসে ইয়াযিদ ইবনে হারুন শরীকের প্রাথমিক জীবনের ছাত্র। দ্রষ্টব্য: কিতাবুস্ সিকাত ৬/৪৪৪ তাহযীবুত তাহযীব ৪/৩৩৬ সুতরাং বর্ণিত হাদীসটি “সহীহ”। এ ছাড়াও শায়েখ শুয়াইব “শরহুস সুন্নাহ” কিতাবের টিকায় বলেন: “মাওয়ারিদুয যমআন” নামক কিতাবে পৃষ্ঠা-১৩২ বর্ণিত সনদে শরীকের স্থানে ইসরাঈল ইবনে ইউনুস নামে একজন রাবী আছে যিনি নির্ভরযোগ্য। তিনি বলেন যদি এটা সঠিক হয়ে থাকে তবে সেই ইসরাঈল শরীকের সুন্দর মুতাবে, কাজেই এ হিসাবে ও হাদীসটি অন্ততঃ পক্ষে হাসান, যা দলীল হিসেবে পেশ করার জন্য যথেষ্ট।
১৮- অবশিষ্ট: শায়েখ শুয়াইব আল আরনাউত “আল ইহসান” নামক কিতাবের ৫/২৭২ পৃষ্ঠা ও শরহুস্সুন্নাহ কিতাবের ৩/২৭ পৃষ্ঠা ও মুসনাদে আহমাদ কিতাবের ৪/৩১৮ পৃষ্ঠা টীকায় বলেছেন হাদীসটির “সনদ সহীহ”। অনুরূপ কথা “সহীহে ইবনে খুযাইমা” নামক কিতাবের ১/৩২৩ পৃষ্ঠা “আল মুন্তাকা” নামক কিতাবের ১০৯ পৃষ্ঠা টীকায় রয়েছে যে, হাদীসটির “সনদ সহীহ”। সুতরাং উল্লেখিত মুহাক্কিকগণের উক্তি মতে হাদীসটির সনদ সহীহ।
১৯- অবশিষ্ট: ইমাম হাকিম রহ. হাদীস খানা উল্লেখ করার পর বলেন:
ہذا حدیث صحیح علی شرط مسلم
অর্থাৎ: ইমাম মুসলিমের রহ. শর্ত অনুযায়ীও হাদীসটি সহীহ। ইমাম যাহাবী রহ. হাকিমের উক্ত কথাকে সমর্থন করেছেন। আল্লামা হাইসামী রহ. মাজমাউয্ যাওয়ায়েদে ২/১৩৫ (২৮০৯) হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলেন এর সনদ হাসান।
২০- অবশিষ্ট: ইমাম হাকিম রহ. হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন, “হাদীসটি ইমাম বুখারী রহ. ও ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্ত অনুযায়ী ও সহীহ। যদিও তারা হাদীসটি তাদের কিতাবে উল্লেখ করেননি।” আল্লামা যাহাবী রহ. ও বলেছেন হাদীসটিতে বুখারী রহ. ও মুসলিম রহ. এর শর্ত পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য যে, বর্ণিত হাদীস দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, প্রিয় নবী ﷺ বাইতুল্লাহর ভিতরে প্রবেশ থেকে শুরু করে বের হওয়া পর্যন্ত দৃষ্টিকে সিজদার স্থানে নিবিষ্ট রেখেছেন। আর একথা প্রমাণিত আছে যে প্রিয় নবী ﷺ সেখানে নামাযও পড়েছেন। তাহলে তিনি নামাযেও সিজদার জায়গায় নজর রেখেছেন। আর সিজদারত অবস্থায় নাকের অগ্র ভাগই যেহেতু বিশেষ ভাবে সিজদার স্থান, তাই এর দ্বারা বুঝা যায় সিজদা অবস্থায় নাকের অগ্র ভাগে নজর রাখা সুন্নাত।
২১- অবশিষ্ট: শায়েখ শুয়াইব আল আরনাউত মুসনাদে আহমাদের টিকায় ৫/৪২৪ বলেন:
إسنادہ صحیح علی شرط مسلم ‘ رجالہ ثقات رجال الشیخین غیر عبد الحمید بن جعفر فمن رجال مسلم.
অর্থাৎ, হাদীসটির সনদ মুসলিম শরীফের শর্ত অনুযায়ী। এর সকল বর্ণনা কারী নির্ভরযোগ্য। বুখারী ও মুসলিম শরীফের বর্ণনাকারী, শুধু মাত্র আব্দুল হামীদ ইবনে জাফর নামক এক ব্যক্তি ব্যতীত। তবে তিনিও মুসলিম শরীফের বর্ণনাকারীগণের একজন।
২২- অবশিষ্ট: বর্ণিত হাদীসটির বিষয় বস্তু সহীহ। যেমনটি ইবনে মাজাহ কিতাবের টিকায় শাইখ মাহমুদ মুহাম্মাদ বলেছেন। দ্রষ্টব্য: ইবনে মাজাহ ১/৪৮০ (৮৮৮) তবে, হযরত হুযাইফার রাযি. এ হাদীস খানা তিনটি সনদে বর্ণিত হয়েছে তন্মধ্য হতে প্রতিটি সনদেই এক একজন বিতর্কিত রাবী রয়েছে। রুকুর বর্ণনায় তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
২৩- অবশিষ্ট: প্রথম হাদীসটি সম্পর্কে আল্লামা জাফর আহমদ উসমানী রহ. ইলাউস্ সুনানে বলেন “হাদীসের সকল বর্ণনা কারী বুখারী ও মুসলিম শরীফের বর্ণনাকারী শুধু মাত্র ইমাম নাসাঈর উস্তাদ “রবী ইবনে সুলাইমান” নামক একজন রাবী ব্যতীত। তবে তিনি ও ثقۃ এবং ইসহাক ইবনে বকর নামক একজন রাবী ব্যতীত তিনি শুধু মাত্র মুসলিম শরীফের রাবী এবং তিনিও ثقۃ. দ্রষ্টব্য: ইলাউসু সুনান ৩/৪৬ ২৪
২৪- অবশিষ্ট: প্রকাশ থাকে যে, বর্ণিত হাদীসের সনদের একজন রাবী মালেক ইবনে নুমায়ের ব্যতীত বাকী সকলেই ثقات (নির্ভরযোগ্য) আর মালেক ইবনে নুমায়েরকে কেউ কেউ অভিযুক্ত করলেও ইবনে হিব্বান রহ. তাকে “کتاب الثقات” এর ৫নং খন্ডের ৩৮৬পৃষ্ঠা উল্লেখ করেছেন । এবং তার “সহীহ” নামক কিতাবে মালেকের সনদে (১৯৪৬) নং হাদীস স্থান দিয়েছেন। অনুরূপ ভাবে ইবনে খুযাইমা রহ. ও তার “সহীহ” নামক কিতাবে ১/৩৫৫ তার সনদে হাদীস এনেছেন। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, লোকটি তাদের কাছে সহীহর এর শর্তানুযায়ী। তাছাড়া ইমাম যাহাবী রহ. “আল্কাশেফে” ২/২৩৭ তার ব্যাপারে وثق বলেছেন। যদ্দারা সাধারণ সত্যায়ন বুঝা যায়। মোট কথা, লোকটির হাদীস হাসান হওয়ার যোগ্য। কাজেই এই হাদীসের সনদটি হাসান পর্যায়ের।
২৫ -অবশিষ্ট: হাদীসটির সনদের সকল রাবী ثقات (নির্ভরযোগ্য)। সুতরাং এটা সহীহ। এবং প্রথম হাদীসটি ও বাহ্যতঃ মাকতূ হাদীস হলেও তা মওকূফ বরং মারফূ‘র হুকুম রাখে। কারণ, এ বিষয়টি হযরত হাম্মাদ রহ. কোন সাহাবী থেকে না শুনে এবং সেই সাহাবী হুযুর ﷺ থেকে না শুনে কিয়াস করে বলতে পারেন না। সুতরাং হাদীসের উসূল হিসাবে তিনি কোন সাহাবী থেকে শুনেই বলেছেন।
২৬- অবশিষ্ট: ইবনে মাজার সনদটি হাসান, কারণ তার সনদে আলী ইবনে আবূ আ‘লা নামে একজন বর্ণনা কারী আছে যিনি “صدوق ” দ্রষ্টব্য: তাকরীব ১/৩২৫ (৩৮৪০) অন্যান্য সকল বর্ণনা কারী সিকাহ (নির্ভরযোগ্য)।
২৭- অবশিষ্ট: হাদীসটির সনদের সকল রাবী সিকাহ। তবে এর মধ্যে আব্দুল আযীয ইবনে রওয়াদ নামে একজন রাবীর ব্যাপারে কিছুটা কালাম থাকার কারণে ইবনে হাজার আসকালানী রহ. তার “তাকরীব” নামক কিতাবে ১/৩৫৮ (৪২২০) তার ব্যাপারে বলেন: صدوق عابد ربما وہم অর্থাৎ, সে সত্যবাদী, আবিদ, তবে মাঝে মধ্যে ভুল করেন। কিন্তু শায়েখ শুয়াইব ও শায়েখ বাশ্শার আওয়াদ তাদের “তাহরীরুত তাকরীব” নামক কিতাবে ২/৩৬৭(৪০৯৬) ইবনে হাজার রহ. এর উক্ত কথা কে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে তিনি ثقۃ (নির্ভরযোগ্য)।
২৮- অবশিষ্ট: হাদীসটির সনদে “ইয়াযীদ ইবনে আবী যিয়াদ” নামে একজন রাবী আছে যিনি আইম্মায়ে রিজালের নিকট বিতর্কিত। তার ব্যাপারে ভাল-মন্দ উভয় ধরনের মন্তব্যই রয়েছে। অনেকের মতে তিনি মুলতঃ সিকাহ। অবশ্য শেষ জীবনে তার মেধা শক্তিতে দূর্বলতা সৃষ্টি হলে তিনি হাদীস বর্ণনায় মাঝে মধ্যে ভুলের শিকার হন। তবে, সনদটি তার এ দূর্বলতার কারণে হাসানের নিচে হবেনা ইনশাআল্লাহ! বিশেষতঃ “মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাতেই” হযরত আলী রাযি. থেকে এ প্রসঙ্গে একটি রিওয়ায়াত রয়েছে যদ্দারা আলোচ্য রিওয়ায়াতটি সমর্থিত হয়। তবে সেই হাদীসের সনদে “ইবরাহীম ইবনে সামী” নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছে। আসমায়ে রিজালের কিতাব সমূহ সম্ভাব্য ঘাটাঘাটি করেও আমরা লোকটির কোন আলোচনা পাইনি বিধায় সেই হাদীসটিকে মূল শিরোনামের অধীনে উল্লেখ করিনি। সেই হাদীসটি নিম্নরূপ:
أخرج الإمام ابن أبی شیبۃ فی ’’ مصنفہ ‘‘ ۱/۲۶۶(۳۰۵۲) بطریق ابن فضیل عن ابراہیم بن سمیع قال : سمعت أبا رزین یقول : سمعت علیا یسلم فی الصلاۃ عن یمینہ و عن شمالہ ‘ والتی عن شمالہ أخفض
অর্থ: হযরত আবূ রযীন রহ. বলেন আমি হযরত আলী রাযি. কে শুনেছি যে, তিনি নামাযে ডানে বামে সালাম ফিরাতেন। আর বাম দিকের সালাম তুলনামূলক আস্তে ফিরাতেন। সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১/২৬৬ (৩০৫২)।
২৯- অবশিষ্ট: আল্লামা হাইসামী রহ. মাজমাউয্ যাওয়ায়েদে (৯/৪৬২) হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলেন:
رواہ الطبرانی من طریق میمونۃ بنت حجر بن عبد الجبار عن عمتہا أم یحیی بن عبد الجبار و لم أعرفہا و بقیۃ رجالہ ثقات
অর্থাৎ তিনি নামক أم یحیی بن عبد الجبار একজন রাবীর অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারেননি। এছাড়া অন্যান্য সকল রাবী ثقات তবে বর্ণিত সনদের উপর কোন হুকুম দেয়া সম্ভব নাহলেও যেহেতু এই হাদীসের একাধিক شواہد حسن রয়েছে, কাজেই এর ব্যাপারে সহীহ বা হাসান হওয়ার সুধারণা পোষণ করা যেতে পারে। شواہد গুলো নিন্মে প্রদত্ত হল:
)۱(قال عبد ربہ بن سلیمان قال : رأیت أم الدرداء ترفع یدیہا فی الصلاۃ حذو منکبیہا .
رواہ ابن أبی شیبۃ فی ’’ مصنفہ ‘‘ ۱ٗ/۲۱۶(۲۴۷۰) و الإ مام البخاری فی ’’ جزء رفع الیدین برقم (۲۲) قلت : رجالہ ثقات اسنادہ صحیح .
অর্থাৎ: আব্দু রব্বিহী ইবনে সুলাইমান বলেন: আমি উম্মেদ্দারদা রাযি. কে দেখেছি যে তিনি নামাযে কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠিয়েছেন। সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১/২১৬ (২৪৭০)। জুযে রফউল ইয়াদাইন লিল বুখারী হাদীস নং (২২) সনদের সকল বর্ণনা কারী সিক্বাত (নির্ভরযোগ্য)।
)۲(قال عاصم الأحول : رأیت حفصۃ بنت سیرین کبرت فی الصلاۃ و أو مأت حذو ثدییہا .
رواہ ابن أبی شیبۃ فی 211مصنفہ‘‘۱/۲۱۶(۲۴۷۵) فی المرأۃ إذا افتتح الصلاۃ إلی این ترفع یدیہا . قلت : إسنادہ حسن .
অর্থাৎ, আসেমে আহওয়াল রহ. বলেন যে, আমি হাফসা বিনতে শিরীনকে দেখেছি যে তিনি নামাযে তাকবীর বলেছেন এবং সীনা পর্যন্ত হাত উঠিয়েছেন। সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১/২১৬ (২৪৭৫)
হাদীসটির এ সকল شواہد এ কথারই প্রমাণ বহন করে যে, হযরত ওয়ায়েল ইবনে হুজরের রাযি. হাদীস খানা সহীহ বা হাসান।
৩০- অবশিষ্ট: বাইহাকী ২/৩১৫(৩২০১) হাদীসটির সনদের সকল বর্ণনাকারী ثقات তবে এটা মুরসাল, কারণ, یزید بن أبی حبیب المصری যিনি প্রিয়নবী ﷺ থেকে হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন তিনি সিগারে তাবেঈনদের অন্তর্ভুক্ত। (দ্রষ্টব্য: তাকরীবুত্তাহযীব পৃষ্ঠা ৬০০) তিনি হুজুর ﷺ থেকে সরাসরি হাদীসটি শুনেননি। তবে হানাফীদের নিকট যেহেতু قرون ثلاثۃ এর মুরসাল গ্রহণ যোগ্য তাই এটি قابل احتجاج বা আমল যোগ্য । কাউয়ায়েদ ফী উলূমিল হাদীস পৃষ্ঠা-১৫৭
৩১- অবশিষ্ট: মাজমাউয্ যাওয়ায়েদ ২/২৩ হাদীসটির সনদের মধ্যে একজন রাবী ব্যতীত অন্যান্য সকল রাবী ছিকাত আর সেই বিতর্কিত একমাত্র রাবী হলেন ইবনে লাহইয়াহ, তার ব্যাপারে তাদীল ও তাজরীহ উভয় ধরনের মতামত রয়েছে। তবে শেষ ফয়সালা হল “যঈফ” তবে মুতাবাআত বা শাওয়াহেদ পাওয়া গেলে তার হাদীস গ্রহণযোগ্য হবে। এমনই মতামত পোষণ করেছেন ইমাম আবূ যুরআহ রাযি. দ্রষ্টব্য: মীযানুল ইতিদাল ২/৪৭৭
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. দ্রষ্টব্য: তাহযীবুততাহযীব ৫/৩৭৫, আল্লামা ইবনে আদী রহ. দ্রষ্টব্য: আলকামেল ৪/১৫২ আল্লামা মুনযিরী রহ. দ্রষ্টব্য: তারগীব তারহীব ৩/৮৪, ৩/১৩৬ শুআইব আল আরনাউত, বাশশার আওয়াদ দ্রষ্টব্য: তাহরীরুত্তাকরীব, শায়েখ উমর হাসান ফাল্লাতাহ দ্রষ্টব্য: আল অযউ ফিল হাদীস ১/১৯৮ মোট কথা হাদীসটির সনদ যঈফ হওয়া সত্বেও হাসান লিগাইরিহী। কারণ এই হাদীসের অনেক শাওয়াহেদ রয়েছে। দ্রষ্টব্য: মাজমাউয্ যাওয়ায়েদ ১/৭৭
৩২- অবশিষ্ট: নাসাঈ শরীফ ২/১৩১ (১০২৬) তহাবী শরীফ ১/১৬২ ইমাম ইবনে হাযম বলেন: “হাদীসটি সহীহ” দ্রষ্টব্য: আল মুহাল্লা ৪/৮৮, আত্তালখীসুল হাবীর ১/৮৩, নাইলুল আউতার ২/১৮২ অনুরূপভাবে আল্লামা নিমাভী রহ. ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দ্রষ্টব্য: আছারুস সুনান পৃষ্ঠা-১৩৩
“আলজাওহারুন নাকী” নামক কিতাবের ১/১৩৭ পৃষ্ঠায় আছে যে, হাদীসটির বর্ণনাকারী সকলেই মুসলিম শরীফের বর্ণনাকারী। ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন: “হাদীসটি হাসান”। একাধিক সাহাবা ও তাবেঈ এর প্রবক্তা। এবং এটা সুফিয়ান সাউরী ও আহলে কুফার মতামত। তুহফাতুল আহওয়াযীর মুহাক্কিক ইসাম বলেন “হাদীসটি সহীহ”। দ্রষ্টব্য: তুহফাতুল আহওয়াযী ১/৫৫১ তবে, ইমাম তিরমিযী রহ. হাদীসটি বর্ণনা করার পর ইবনুল মুবারকের এ উক্তি নকল করেছেন যে, প্রিয় নবী ﷺ থেকে একথা প্রমাণিত নয় যে, তিনি কেবল মাত্র নামাযের শুরুতে একবারই রফয়ে য়াদাইন করেছেন।
এর জবাব এই যে, হাদীসের বিষয় বস্তুটি হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে দুই ভাবে ভিন্ন ভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে।
১. হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায নকল করতে যেয়ে কেবলমাত্র একবার রফয়ে য়াদাইন করে দেখিয়েছেন।
২. একাধিকবার হাত না উঠানোর বিষয়টি তিনি সরাসরি হযরত রাসূলু্ল্লাহ ﷺ এর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। ইবনুল মুবারকের উদ্দেশ্য হল, বিষয়টি দ্বিতীয় পদ্ধতিতে প্রিয় নবী ﷺ থেকে প্রমাণিত নয়। অন্যথায়, একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, বিষয়টি প্রথম পদ্ধতিতে অত্যন্ত মজবুত সূত্রে প্রমাণিত রয়েছে। যা আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, হাদীসের সকল বর্ণনাকারী মুসলিম শরীফের বর্ণনাকারী। আর এ পদ্ধতিতে হাদীসটি ব্যাহ্যত হযরত ইবনে মাসউদের রাযি. আমল হলেও হুকমান তা মারফূ। কেননা, তিনি তো রাসূলেরই নামায দেখিয়েছেন। আল্লামা ইবনে দাকীকুল ঈদ রহ. বলেন ইবনুল মুবারকের কাছে বিষয়টি প্রমাণিত না থাকলেও হাদীসটিতে অনুসন্ধানী দৃষ্টি দিতে কোন বাঁধা নেই। (আর অনুসন্ধানের পর দেখা যায়) হাদীসটির ভিত্তি আসেম ইবনে কুলাইব নামক রাবীর উপর। আর তাকে ইবনে মাঈন রহ. নির্ভরযোগ্য বলেছেন। দ্রষ্টব্য: নসবুর রায়া ১/৩৯৪ তাছাড়া খোদ ইবনুল মুবারকের সূত্রে সহীহ ভাবে হাদীসটি নাসাঈ শরীফে বর্ণিত আছে। দ্রষ্টব্য: নাসাঈ শরীফ হাদীস নং (১০২৬) সুতরাং কী করে একথা বলা যেতে পারে যে, ইবনুল মুবারকের কাছে বিষয়টি মোটেও প্রমাণিত নয়। যেখানে রফয়ে য়াদাইনের ব্যাপারে অন্যান্য সাহাবাদের রাযি. সাথে হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. এর মত বিরোধ অতি প্রসিদ্ধ ছিল। বিস্তারিত জানার জন্য দ্রষ্টব্য: আছারুস সুনান পৃষ্ঠা ১৩৩-১৩৫ নসবুর রায়া ১/৩৯৫-৩৯৭ ইলাউস সুনান ২/৫৭-৬০
৩৩- অবশিষ্ট: ইমাম ইবনে হিব্বান রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নিমাভী রহ. ও বলেছেন “হাদীসটির সনদ সহীহ” দ্রষ্টব্য: আছারুস সুনান পৃষ্ঠা-৯৪ আল্লামা যাইলাঈ রহ. এতদসংকুলাক্রান্ত একাধিক রিওয়ায়াত নকল করার পর বলেন এ সব রিওয়ায়েতের সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। দ্রষ্টব্য: নসবুররায়া ১/৪০৩ অনুরূপভাবে ইলাউস সুনানেও হাদীসটির সনদকে সহীহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্রষ্টব্য: ইলাউসসুনান ২/২১১
৩৪- অবশিষ্ট: আল্লামা নিমাভী রহ. তার আছারুস সুনান নামক কিতাবে (পৃষ্ঠা ১১৩) হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলেন اسنادہ صحیحاسنادہ صحیح অর্থাৎ, এর সনদটি সহীহ। অনুরূপ কথা আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে আহমদ সানী ও ইবনুল হুমাম রহ. বলেন ہذا الاسناد صحیح علی شرط الشیخین অর্থাৎ, এ সনদটি ইমাম বুখারী রহ. ও মুসলিম রহ. এর শর্তানুযায়ী। দ্রষ্টব্য: ইলাউস্ সুনান ৪/৭১ আল্লামা জাফর আহমদ উসমানী রহ. বলেন :
قلت : رجالہ رجال الجماعۃ الا امامنا الأعظم أباحنیفۃ و ہو ثقۃ لا یسئل عن مثلہ قال فی’’الجوہر النقی‘‘ :(۱/۱۷۲) فقد و ثقہ کثیر ون وأخرج لہ ابن حبان فی ’’ صحیحہ ‘‘ و استشہد بہ الحاکم فی ’’المستدرک‘‘.
অর্থাৎ, হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ সকলেই সিহাহ সিত্তাহ বর্ণনাকারী শুধু মাত্র আবূ হানীফা রহ. ব্যতীত। আর তিনিও এতই নির্ভরযোগ্য যে তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করার প্রশ্নই উঠেনা। আলজাওহারুন নাকী নামক কিতাবে আছে যে, অনেকেই তাঁকে সত্যায়ন করেছেন। ইবনে হিব্বান রহ. স্বীয় সহীহ নামক হাদীস গ্রন্থে তার সূত্রে হাদীস এনেছেন। ইমাম হাকিম রহ. স্বীয় মুসতাদরাক গ্রন্থে তার মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, ইমাম দারাকুতনী রহ. এই হাদীসটি তার “আস সুনান” নামক কিতাবে উল্লেখ করার পর যে মন্তব্য করেছেন তার সার সংক্ষেপ হল: হাদীসটিকে মুত্তাসিল হিসাবে বর্ণনাকারী আবূ হানীফা রহ. ও হাসান ইবনে আম্মারা রহ. ব্যতীত আর কেউ নেই। আর তারা দুজনই হলেন যঈফ। অথচ এদুজন ছাড়া আর প্রায় সকলেই ইহাকে মুরসাল হিসাবে রিওয়ায়াত করেছেন। দ্রষ্টব্য: সুনানে দারা কুতনী ১/৩২৪
এর জবাবে ইমাম দারা কুতনীর উপরোক্ত বক্তব্য মুহাক্কিক উলামায়ে কিরামের নিকট প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এবং ইমাম চতুষ্ঠয়ের অন্যতম ইমামে আযম ইমাম আবূ হানীফাকে রহ. যঈফ বলার কারণে বিভিন্ন মুহাদ্দিসীনে কিরাম তার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠিন শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা এখানে উল্লেখ করা মুখ্য নয়। এখানে আমরা শুধুমাত্র আবূ হানীফা রহ. সম্পর্কে ইলমুল জারহে ওয়াত্তাদ্দিলের বিখ্যাত কয়েক জন ইমামের মন্তব্য নকল করেছি।
ইমাম বুখারী রহ. ও মুসলিম রহ. এর উস্তাদ ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন রহ. কে আবূ হানীফা রহ. সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জবাবে বলেন:
ہو ثقۃ ما سمعت أحدا ضعفہ ‘ ہذا شعبۃ بن الحجاج یکتب الیہ أن یحدث و یأمرہ‘ و شعبۃ شعبۃ.
অর্থাৎ, তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, তাকে যঈফ বলতে আমি কাউকে শুনিনি। এই যে শু‘বা ইবনুল হাজ্জাজ; তিনি আবূ হানীফা রহ. এর কাছে এ মর্মে চিঠি লিখেন যেন তিনি তার জন্য হাদীস বর্ণনা করেন। আর শু‘বাতো শু‘বাই অর্থাৎ তার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। দ্রষ্টব্য: আলইনতিকা পৃষ্ঠা ১৯৭ তাযকিরাতুল হুফ্ফায ১/১৬৮
অন্যত্র ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন রহ. কে ইমাম আবূ হানীফা রহ. সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:
عدل ثقۃ ماظنک بمن عدلہ ابن المبارک ووکیع؟
অর্থাৎ, তিনি ইনসাফগার ও নির্ভরযোগ্য, ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে তোমার কি ধারণা যাক সত্যায়ন করেছেন ইবনুল মুবারক রহ. ও অকী রহ.। সূত্র: মানাকেবে আবূ হানীফা লিন কুরদবী পৃষ্ঠা-৯১
তিনি আরো বলেন:
ہو ثقۃ ثقۃ کان واللہ اورع من أن یکذب و ہو اجل قدرا من ذلک (تاریخ بغداد ۱۳/۴۵۰(
অর্থাৎ তিনি নির্ভরযোগ্য, নির্ভরযোগ্য, খোদার কসম তিনি ছিলেন মিথ্যা থেকে পুতঃপবিত্র, তাঁর মর্যাদা এর চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। সূত্র: তারীখে বাগদাদ ১৩/৪৫০
তিনি আরো বলেন:
کان أبوحنیفۃؒ ثقۃ لا یحدث الا بما یحفظہ و لا یحدث بما لا یحفظ (تہذیب التہذیب ۱۰/۴۵۰)
অর্থাৎ, আবূ হানীফা রহ. ছিলেন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। তিনি কেবল ঐ হাদীসই বর্ণনা করতেন যা তার মুখস্থ আছে, আর যা মুখস্থ নেই তা বর্ণনা করতেন না। সূত্র: তাহযীবুত্তাহযীব ১০/৪৫০
ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ. বলেন:
لیس أحد أن یقتدی بہ من أبی حنیفۃ ؒ لأنہ کان اماما تقیا نقیا عالما فقیہا کشف العلم کشفا لم یکشفہ أحد ببصر وفہم و فطنۃ ونقی. ( تاریخ بغداد ۱۳/۳۲۴(
অর্থাৎ, অনুসরণের জন্য আবূ হানীফা রহ. এর চেয়ে অধিক উপযুক্ত আর কেউ নেই। কারণ তিনি ছিলেন ইমাম, মুত্তাকী, আলেম, ফকীহ। তিনি ইলমকে দেখে শুনে বুঝে বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার সাথে এমন ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন যেমন কেউ করেননি। সূত্র : তারীখে বাগদাদ ১৩/৩২৪
ইমাম মিস‘আর ইবনে কিদাম রহ. বলেন :
رحم اللہ أبا حنیفۃ انہ کان لفقیہا عالما . (الانتقاء ص : ۱۹۵)
অর্থাৎ, আল্লাহ তা‘আলা আবূ হানীফার উপর রহম করুন তিনি নিঃসন্দেহে একজন ফকীহ ছিলেন। সূত্র : ইন্তিকা পৃষ্ঠা-১৯৫
ইমাম আবূ দাউদ রহ. বলেন :
رحم اللہ أبا حنیفۃ کان اماما (جامع بیان العلم و فضلہ ۲/۱۲۵۰والجواہر المضیۃ ۱/۵۸(
অর্থাৎ, আল্লাহ তা‘আলা আবূ হানীফা রহ. এর উপর রহম করুন। তিনি একজন ইমাম ছিলেন। সূত্র: জামিউ বয়ানিল ইলমী ২/২৫০
আসমায়ে রিজাল শাস্ত্রের এসকল যবরদস্ত ইমামগণের কয়েকটি মাত্র উক্তি এখানে উল্লেখ করা হল যাদের প্রত্যেকেই ইমাম দারাকুতনীর চেয়ে বহুগুণে বেশী যোগ্যতা সম্পন্ন এবং আবূ হানীফা রহ. এর নিকটবর্তী যুগের। সুতরাং এসকল মহান ব্যক্তির সত্যায়নের মোকাবেলায় ইমাম দারাকুতনীর উল্লেখিত যঈফ বলার কোনই মূল্য নেই। বরং, এরূপ অশোভন মন্তব্যের কারণে তিনি কঠিন আপত্তির সম্মুখীন হয়েছেন ।
আর হাসান ইবনে আম্মারা রহ. কে যে ইমাম দারাকুতনী রহ. যঈফ বলেছেন তা বাস্তব সম্মত হলেও আমাদের কোন ক্ষতি নেই। কারণ ইমাম আবূ হানীফা রহ. যেখানে নির্ভর তার শীর্ষে অবস্থান করছেন, সেখানে হাসান ইবনে আম্মারার দুর্বলতা কোন সমস্যা নয়। মোট কথা ইমাম আবূ হানীফা রহ. এক জন শীর্ষস্থানীয় নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। আর হাদীসের উসূল অনুযায়ী এমন ব্যক্তির বর্ধিতকরণ গ্রহণযোগ্য। দ্রষ্টব্য: শরহে মুসলিম লিননববী (১/২৫৬) কাজেই অন্যান্যরা হাদীসটিকে মুরসালান রিওয়াত করলেও ইমাম আবূ হানীফা রহ. যে এটাকে মারফুআন রিওয়াত করেছেন তা নির্দ্বিধায় গ্রহণযোগ্য। সুতরাং হাদীসটি মারফু হওয়াই সঠিক।
আসলে হাদীসটিকে আবূ হানীফা রহ. ও হাসান ইবনে আম্মারাহ ব্যতীত আর কেউ মারফুআন রিওয়াত করেননি। ইমাম দারা কুতনীর এ কথাও সঠিক নয়। কারণ, এটিকে আরও অনেকেই মারফুআন রিওয়ায়াত করেছেন। যেমনঃ সুফিয়ান সাওরী তিনি বুখারী ও মুসলিমে রাবী ও শরীক রহ. তিনি মুসলিম শরীফের রাবী, তারা উভয় হাদীসটিকে মারফুআন বর্ণনা করেছেন। তাদের রিওয়াতটি মুসনাদে আহমাদ ইবনে মানীতে বিদ্যমান আছে। অনুরূপভাবে হাসান ইবনে সালেহ আবূ জুবায়ের থেকে, তিনি হযরত জাবের রহ. থেকে মারফুয়ান বর্ণনা করেছেন। তার সেই রিওয়ায়াতটি মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাতে ১/৩৩০ (৩৭৭) রয়েছে। বুঝা গেল হাদীসটিকে মারফুআন বর্ণনাকারীগণের মধ্যে ইমাম আবূ হানীফা ও হাসান ইবনে আম্মারার সাথে আরো অন্তত তিনজন রয়েছে । কাজেই একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, হাদীসটি মুলতঃ মারফু। তবে রাবী সিকাহ হওয়ার কারণে তারা কখনো মুরসাল হিসাবেও বর্ণনা করেছেন। আর হযফকৃত ব্যক্তি যদি জানা থাকে এবং তিনি সিকাহ হন, সেই মুরসালও পরিপূর্ণ প্রমাণযোগ্য। উপরন্তু এ হাদীসটি আটজন সাহাবা থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত আছে সেগুলো একক ভাবে কিছু যঈফ হলেও সামগ্রিক ভাবে শক্তিশালী।
৩৫- অবশিষ্ট: ইমাম হাকিম রহ. হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন। বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ীও হাদীসটি সহীহ, যদিও তারা তাদের কিতাবে উল্লেখ করেননি। ইমাম যাহাবী রহ. ও বলেন বাস্তবেই এটা বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী। আল্লামা নিমাভী রহ. ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
দ্রষ্টব্য: আছারুস সুনান পৃষ্ঠা-১২৪ তিনি বলেন: তবে এর মতনের মধ্যে কিছুটা ইযতিরাব (উলট পালট) রয়েছে।
স্মর্তব্য যে, কোন কোন আলেম হাদীসটির মধ্যে কিছু কিছু খুঁত বের করেছেন তা আসলে ভিত্তিহীন। আল্লামা নিমাভী রহ. তার আছারুস সুনানের ১২৪ পৃষ্ঠা ও হযরত জাফর আহমদ উসমানী রহ. তার ইলাউস্ সুনানের ২/২৫০-২৫৫ পৃষ্ঠায় তা প্রমাণ করেছেন। এবং অপরাপর রিওয়ায়াতের উপর এ রিওয়ায়াতের প্রাধান্য দেখিয়েছেন।
৩৬- অবশিষ্ট: আল্লামা নববী রহ. বলেন হাদীসটি সহীহ, দ্রষ্টব্য: শরহুলে মুহাযযাব ৩/৪৫৪ তুহ্ফাতুল আহওয়াযী ২/৫৫ ইলাউস্ সুনান ২/১১২
অনুরূপ ভাবে ইমাম বাইহাকী রহ. ও বলেন হাদীসটি সহীহ, দ্রষ্টব্য: বাযলুল মাজহুদ ৫/৩১৯ শায়েখ শুয়াইব আল আরনাউত বলেন হাদীসটির সনদ শক্তিশালী। দ্রষ্টব্য: শরহুস্সুন্নাহ (টিকা) ৩/১৭৮
৩৭- অবশিষ্ট: ইমাম হাকিম রহ. হাদীসটি রিওয়ায়াত করার পর বলেন: “হাদীসটির সনদ সহীহ”। যদিও ইমাম বুখারী রহ. ও ইমাম মুসলিম রহ. হাদীসটি তাদের কিতাবে আনেননি। আর সনদের একজন রাবী ইয়াহিয়া ইবনে আবী সুলাইমান মিসরী নির্ভরযোগ্য রাবীদের একজন।
ইমাম যাহাবী রহ. ও তালখীসের মধ্যে এ ব্যাপারে ইমাম হাকিম রহ. কে সমর্থন করেছেন। ইমাম হাকিম রহ. মুস্তাদরাকের অন্য এক জায়গায় (২/২৭৪) ও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন সেখানেও তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। এবং এটাও বলেছেন যে, সনদের সকল রাবীর মাধ্যমে ইমাম বুখারী রহ. ও ইমাম মুসলিম রহ. প্রমাণ পেশ করেছেন। আর ইয়াহইয়া নামক রাবীর ব্যাপারে কোন জরাহ বা অভিযোগ জানা যায়নি। ইমাম যাহাবী রহ. ও বলেন হাদীসটি সহীহ, আর ইয়াহইয়ার ব্যাপারে কোন অভিযোগ উল্লেখ নেই। কিন্তু বর্ণিত ইয়াহইয়ার ব্যাপারে ইমাম বুখারী রহ. তাঁর “কিরাআত খালফাল ইমাম” নামক রিসালায় অভিযোগ করেছেন। তাঁর এ অভিযোগকে আইম্মায়ে জরাহ তাদীলগণ গ্রহণ করেননি। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন ইলাউস্ সুনান জুয নং ৪ পৃষ্ঠা ৩৮-৩৩৯ । সার কথা হল: হাদীসটি সহীহ যেমন উপরে বর্ণিত হয়েছে। এবং হাসান হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।
৩৮- অবশিষ্ট: ইমাম নববী রহ. তাঁর “আল মাজমূ শরহুল মুহাযযাব” নামক কিতাবের ৪/৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন যে, “হাদীসটির সনদ সহীহ”। আল্লামা যাইলাঈ রহ. “নসবুর রায়া” ২/২৪০ নামক কিতাবে বলেন: ইমাম আবূ দাউদ রহ. ও আল্লামা মুনযিরী রহ. হাদীসটি বর্ণনা করার পর নীরবতা অবলম্বন করেছেন। কাজেই হাদীসটি তাদের কাছে সহীহ। আল্লামা ইবনুল হুমাম রহ. ও ফাতহুল কাদীরে ১/৩৮৮ অনুরূপ কথা বলেছেন। আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহ. ও “উদাতুল কারীতে” ৫/৫৫৪ বলেন: “হাদীসটি সহীহ”।
হাদীসটির সনদের মধ্যে শুআইব নামক একজন রাবীর ব্যাপারে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও ইমাম বুখারীর রহ. তার প্রতি মৌন সমর্থন ছাড়াও বড় বড় কয়েক জন ইমামুল জরহে ওয়াত্তা দিলের স্পষ্ট সত্যায়ন রয়েছে। দ্রষ্টব্য: তাহযীবুত্তাহযীব ৪/৩৫৮ সুতরাং হাদীসটির সনদ হাসান বরং সহীহ।
৩৯- অবশিষ্ট: এই হাদীসটির সনদের মধ্যে “ইবরাহীম ইবনে উসমান আবূ শাইবা আল আবাসী” নামক এক জন রাবী রয়েছে, যাতে প্রায় অনেক ইমামই যঈফ বলেছেন । দ্রষ্টব্য: তাহযীবুত্ তাহযীব ১/১৪৫
তবে আল্লামা ইবনে আদী রহ. তার ব্যাপারে বলেন:
لہ أحادیث صالحۃ و ہو خیر من إبراہیم بن أبی حیّۃ
অর্থাৎ, “তার অনেক গ্রহণযোগ্য হাদীস আছে। এবং তিনি ইবরাহীম ইবনে আবি হাইয়্যা অপেক্ষা উত্তম”। আর ইবরাহীম ইবনে আবী হাইয়্যার ব্যাপারে ইবনে হাজার আসকালানী রহ. “লিসানুল মীযান” নামক কিতাবে ১/৫৩ ইবনে মাঈন রহ. থেকে নকল করেন شیخ ثقۃ کبیر অর্থাৎ, তিনি একজন বড়মাপের নির্ভরযোগ্য শায়েখ। যদিও তার ব্যাপারে অন্যান্য ইমামগণ শক্ত বাক্যও ব্যবহার করেছেন।
মোটকথা, লোকটি বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। আর এমন লোকের হাদীস কারীনার ভিত্তিতে হাসান হওয়ার যোগ্য। সুতরাং ইবনে আদী রহ. যখন আলোচ্য হাদীসের রাবী ইবরাহীম ইবনে উসমানকে ইবরাহীম ইবনে আবী হাইয়্যার চেয়েও উত্তম বলেছেন, তখন বর্ণিত সনদটিকে হাসান বলাই মুনাসেব। বিশেষতঃ যখন একাধিক সহীহ সনদের মওকুফ হাদীস দ্বারা এ হাদীসের বিষয়টি সমর্থিত তখন আমাদের উপরোক্ত মতামত আরো শক্তিশালী হয়ে যায়।
৪০- অবশিষ্ট: আল্লামা নিমাভী রহ. তার “আত্তালীকুল হাসান” নামক কিতাবে (পৃষ্ঠা: ২৫১) বলেন: “হাদীসটির সনদকে একাধিক হুফ্ফায সহীহ বলেছেন”। যেমনঃ আল্লামা নববী রহ. তার “খুলাসা” নামক কিতাবের মধ্যে, ইবনুল ইরাকী রহ. শরহুত্তাকরীবে, আল্লামা সুয়ূতী রহ. “আল মাসাবীহ” নামক কিতাবে । অনুরূপভাবে তিনি বলেন হাদীসটিকে ইমাম বাইহাকী রহ. তার মারিফাতুস্ সুনান অল আছারে অপর এক সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং সেটির সনদকে আল্লামা সুবকি রহ. তার “শরহুল মিনহাজ” নামক কিতাবে এবং মুল্লা আলী কারী রহ. তার “শরহুল মুআত্তাতে” সহীহ বলেছেন। দ্রষ্টব্য: আসারুস্ সুনান পৃষ্ঠা: ২৫২
৪১- অবশিষ্ট: হাদীসের সনদের সকল রাবী ছিক্বাহ, তবে সনদের একজন রাবী “জাররাহ ইবনে মালীহের” ব্যাপারে কিছুটা মতবিরোধ রয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে তিনি ----বরং----(দ্রষ্টব্য: তাহাযীবুল কামাল ৩/৩৪০ তাহযীবুত্ তাহযীব ২/৩৪-৩৫) কাজেই, এই সনদটি হাসান। হাদীসটি সহীহ লিগাইরিহি। কারণ এই হাদীসের সহীহ শাওয়াহেদ রয়েছে। দ্রষ্টব্য: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ২/১৭ (৭৭৩৭)
৪২- অবশিষ্ট: ত্বহাভী শরীফ ২/১০ মুসনাদে আহমাদ ৩/৪২৮/৪৪৪, তাবরানী আউসাত ১/১৪২, ২/১৭০ মুসনাদে আবূ য়ায়ালা ৩/৮৮(১৫১৮) হাদীসটিকে আল্লামা হাইসামী রহ. মাজমাউয্ যাওয়ায়েদে উল্লেখ করার পর বলেন: “হাদীসের সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য” আমাদের কথা হল আসলেও সনদটি সহীহ। এর সকল রাবী মুসলিম শরীফের রাবী। শুধু মাত্র আবূ রাশেদ আল হুবরানী নামক একজন রাবী ব্যতীত তবে তিনিও ছিকাহ (দ্রষ্টব্য: তাকরীব ২/৭১৯) তরজমা নং (৮৩৭৩)
৪৩- অবশিষ্ট: ইমাম আবূ দাউদ রহ. হাদীসটি বর্ণনা করার পর নীরবতা অবলম্বন করেছেন। অনুরূপ ভাবে আল্লামা মুনযিরী রহ. ও নীরবতা অবলম্বন করেছেন। উসূল অনুযায়ী হাদীসটি তাদের নিকট হাসান হওয়ার প্রমাণ বহন করে দ্রষ্টব্য: আল বা’ইসুল হাদীস পৃষ্ঠা: ৩৬ তা’লীকু কাওয়ায়েদ ফী উলূমিল হাদীস পৃষ্ঠা: ৮৭) আল্লামা নিমাভী রহ. বলেন হাদীসটির সনদ হাসান ।)দ্রষ্টব্য: আছারুস সুনান পৃষ্ঠা: ৩১৪
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হাদীসটির সনদে আবূ আয়িশা নামক একজন রাবী আছে যার ব্যাপারে ফয়সালা হল তিনি مجہول الحال দ্রষ্টব্য: তাকরীবুত্তাহযীব (৪/২২৭) আর এরূপ ব্যক্তির রিওয়ায়াত ইমাম আবূ হানীফা রহ. এর নিকট গ্রহণযোগ্য। দ্রষ্টব্য: কাওয়ায়েদ ফী উলূমিল হাদীস পৃষ্ঠা: ২০৩-২০৪ এছাড়াও এ হাদীসের অনেক শাওয়াহেদ রয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে হাদীসটি হাসান লিগাইরিহি বরং সহীঁহ লিগাইরিহি হওয়ার যোগ্য এতে কোন সন্দেহ নেই। সে সকল শাওয়াহেদের মধ্য থেকে একটি তা, যা সহীহ সনদের মাধ্যমে হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক কিতাবে আরো বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ হয়েছে। দ্রষ্টব্য: ৩/২৯৩-২৯৪ (৫৬৮৭)
৪৪- অবশিষ্ট: ইমাম হাকিম রহ. হাদীসটি বর্ণনা করার পরে বলেছেন “এই হাদীসের বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে ইমাম বুখারী রহ. ও ইমাম মুসলিম রহ. প্রমাণ পেশ করেছেন। শুধু মাত্র আব্দুল হামীদ ইবনে সিনান নামক এক জন বর্ণনা কারী ব্যতীত। আর ইবনে হাজার আসকালানী রহ. এ ব্যক্তির ব্যাপারে তার “তাকরীব” নামক কিতাবে বলেছেন বা সাধারণ গ্রহণ যোগ্য । (দ্রষ্টব্য: আততাকরীব পৃষ্ঠা: ১১৭) এবং ইবনে হাজার আসকালানী রহ. তার “আদদিরায়াহ” পৃষ্ঠা: ১৪৯ কিতাবে লিখেন “হাদীসটিকে ইমাম হাকিম সহীহ বলেছেন”। দ্রষ্টব্য: ইলাউস্ সুনান ৮/৩০৮
৪৫- অবশিষ্ট: ইমাম হাইসামী রহ. হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলেন: رجالہ مو ثقون তবে, বাইহাকী শরীফে হাদীসটি ইবনে উমর রাযি. থেকে মওকুফান রিওয়ায়াত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই হাদীসটির একটি শাহেদ রয়েছে যা তাবারানী ১৬/৪৪৪ (১৩৬১৩) শুআবূল ঈমান ৭/১৬ (৮৮৫৪) ও বাইহাকী ৪/৫৬ মূসনাদে ফির‘দাউস ১/২৮৪ (১১১৫) ইত্যাদি কিতাবে রয়েছে হাদীসটির সনদে দুর্বলতা থাকলেও একটি অপরটির মাধ্যমে শক্তি লাভ করে তা আমল যোগ্য হয়ে গেছে। হাদীসটির বিষয়বস্তু নিম্নরুপঃ মহানবী ﷺ ইরশাদ ফরমান “তোমাদের কেউ মারা গেলে তাকে নিজেদের মাঝে আটকিয়ে না রেখে তাকে দ্রুত কবরস্থ কর, আর তার কবরে মাথার কাছে যেন সূরা ফাতিহা ও পায়ের কাছে সূরা বাকারা পড়া হয়”। সুতরাং হাদীসে বর্ণিত উভয় বিষয় বস্তুর উপর আমল করা যেতে পারে ।
৪৬- অবশিষ্ট: উল্লেখ্য যে, হাদীসটি ব্যাহ্যতঃ মওকুফ মনে হলেও বাস্তবে এটা মারফুর হুকুমে। কারণ ধারাবাহিকতার ওয়াজিব কে লঙ্ঘন করার কারণে হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. কারও উপর দম দেয়া আবশ্যক তখনই সাব্যস্ত করে দিতে পারেন যখন বিষয়টি তার নিকট প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত থাকবে। এই হাদীসের সনদের মধ্যে ইবরাহীম ইবনে মুহাজির নামক এক জন রাবী আছে যার ব্যাপারে আইম্মায়ে জরাহ তাদীল থেকে تعدیل ও تجریح উভয় ধরণের কালামই উল্লেখ রয়েছে। তবে তার ব্যাপারে কেউ মারাত্মক ধরণের কালাম করেননি। পক্ষান্তরে কেউ কেউ তাকে পরিপূর্ণ ثقۃ বা নির্ভরযোগ্য ও বলছেন। দ্রষ্টব্য: তাহযীবুল কামাল ১/৪৩৬ (২৪৬) তাহযীবুত্তাহযীব ১/১৪৬, কাজেই তিনি حسن الحدیث এর মর্তবায় অবশ্যই থাকবেন। এ ছাড়া সনদের অপরাপর সকল রাবীই ثقات ফলে হাদীসটির সনদ অন্তত হাসান। তাছাড়া তহাভী শরীফের এক রিওয়ায়াতে এ লোকটির ও متابع রয়েছে সুতরাং হাদীসটির সনদ হাসান। আর তার মুতাবে ও শাওয়াহেদ মিলিয়ে সহীহ লিগাইরিহি হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
৪৭- অবশিষ্ট: মুস্তাদরাকে হাকিম ৪/৭৫ ইমাম হাকিম রহ. বলেন: “হাদীসটি সহীহ”। এবং ইমাম যাহাবী রহ. ও তার কথার সমর্থন করেন। আর ইমাম তিরমিযী রহ. হাদীসটি বর্ণনার পর বলেন : حدیث حسن অর্থাৎ, হাদীসটি হাসান।
সমাপ্ত
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islami_jindegi


