আসরের নামাযের উত্তম সময়
আসরের নামায বিলম্ব করে (বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার পর) পড়বেঃ
)۱(عن ا بن عمرؓ عن رسول اللہ ۔ﷺ ۔قال: إنما أجلکم فی أجل من خلا من الأمم ما بین صلاۃ العصر إلی مغرب الشمس وإنما مثلکم ومثل الیہود والنصاری کرجل استعمل عمالا فقال : من یعمل لی إلی نصف النہار علی قیراط قیراط؟ فعملت الیہود إلی نصف النہارعلی قیراط قیراط ثم قال : من یعمل لی من نصف النہارإلی صلاۃ العصر علی قیراط قیراط؟ فعملت النصاری من نصف النہار إلی صلاۃ العصر علی قیراط قیراط ثم قال من یعمل لی من صلاۃ العصر إلی مغرب الشمس علی قیراطین قیراطین؟ قال : ألا فأنتم الذین یعملون من صلاۃ العصر إلی مغرب الشمس علی قیراطین قیراطین‘ ألا لکم الأجر مرتین۰ فغضبت الیہود والنصا ری فقالوا : نحن أکثر عملا وأقل عطاء؟ قال اللہ : ہل ظلمتکم من حقکم شیئا؟ قالوا : لا. قال اللہ : فانہ فضلی أعطیہ من شئت۰
رواہ البخاری فی ’’صحیحہ‘‘ ۲/۸۵۲ ( ۳۴۵۹) کتاب أحادیث الأنبیاء‘ باب ما ذکر عن بنی إسرائیل.
) ۲ (و عن عبد اللہ بن رافع مولی أم سلمۃؓ زوج النبی ۔ﷺ ۔أنہ سال أباہریرۃؓ عن وقت الصلاۃ فقال أبوہریرۃؓ : أنا أخبرک صل الظہر إذاکان ظلک مثلک‘ والعصر إذاکان ظلک مثلیک۰
رواہ الامام مالک فی’’المؤطأ‘‘ ص:
অর্থ: (১) হযরত ইবনে উমর রাযি. প্রিয় নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয় তোমাদের বয়স পূর্ববর্তী উম্মতের বয়সের তুলনায় আসরের নামায থেকে নিয়ে সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত। আর তোমাদের ও ইয়াহুদ খৃষ্টানদের দৃষ্টান্ত হল এরূপ যে, এক ব্যক্তি কিছু শ্রমিক নিয়োগ কবতে চায়, তাই সে ঘোষণা করল: এক এক কিরাত মজুরীর বিনিময়ে কারা কারা দুপুর পর্যন্ত আমার কাজ করে দিবে? (তার এই ঘোষণায়) ইহুদীগণ (সম্মত হয়ে) দুপুর পর্যন্ত এক কিরাতের শর্তে কাজ করল। সেই ব্যক্তি পূণঃ ঘোষণা করল, দুপুর থেকে আসর পর্যন্ত এক এক কিরাত মজুরীর বিনিময়ে কারা আমার কাজ করে দিবে? এবার খৃষ্টানগণ এক এক কিরাতের বিনিময় দুপুর থেকে আসর পর্যন্ত কাজ করল। তৃতীয় বার সেই ব্যক্তি ঘোষণা করল, আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ে দুই দুই কিরাত মজুরীর বিনিময়ে কারা আমার কাজ করে দিবে? প্রিয় নবী ﷺ ইরশাদ করেন, “শুনে রাখ তোমরাই তারা যারা আসর খেকে মাগরিব পর্যন্ত কাজ করবে। শুনে রাখ তোমাদেরকেই দ্বিগুণ মজুরী দেওয়া হবে”। (এ অবস্থা দেখে) ইয়াহুদ ও খৃষ্টানগণ এই বলে রাগান্বিত হয়ে গেল যে, আমরা কাজ করলাম অধিক আর আমাদের মজুরী কম! তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন আমি কি তোমাদের প্রাপ্যের কোন অংশ কমিয়ে দিয়েছি? তারা জবাব দিল “না” এবার আল্লাহ তা‘আলা বলেন! নিশ্চয় এটা আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে চাই তাকে তা দান করি । সূত্র:বুখারী ৩/৮৫২ (৩৪৫৯)
উল্লেখ্য যে, বর্ণিত হাদীসে ইয়াহুদ ও খ্রীষ্টানদের কাজের সময় উম্মতে মুহাম্মাদীর তুলনায় বেশী, অথচ মজুরীর বেলায় তাদের চেয়ে কম হওয়ায় তারা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। এর দ্বারা বুঝা যায় ইয়াহুদীদের সময় যা সকাল থেকে দুপুর ও খৃষ্টানদের সময় যা দুপুর থেকে আসর তা অবশ্যই উম্মতে মুহাম্মাদীর সময় তথা আসর-মাগরিব থেকে বেশী। আর এটা তখনই হবে যখন আসরকে দুই মিছিল তথা বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার পর ধরা হবে। আর যদি ছায়া এক গুণ হওয়ার পর আসরের ওয়াক্ত বলা হয়, তবে আসর থেকে মাগরিবের সময় যুহর থেকে আসরের সময়ের চেয়ে অবশ্যই বেশী হয়ে যাবে। অথচ এমতাবস্থায় খৃষ্টানদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করার কোন অর্থ থাকে না। কেননা, তাদের কাজের সময় তো উম্মতে মুহাম্মাদীর সময়ের তুলনায় কম। সুতরাং একথা বাধ্য হয়েই বলতে হবে যে, দুই মিছিলের পর আছরের ওয়াক্ত শুরু হয়।
অর্থ: (২) প্রিয়নবী ﷺ এর সহধর্মিণী হযরত উম্মে সালামার রাযি. দাস হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাফে রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. কে নামাযের ওয়াক্ত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে জবাবে তিনি বলেন, “তুমি যুহরের নামায পড়; যখন তোমার ছায়া এক গুন হয়, আর আসর পড় যখন তোমার ছায়া দ্বিগুণ হয়”। সূত্র: মুআত্তা মালেক পৃষ্ঠা-৩ হাদীসটির সনদ সহীহ। আসারুস সুনান পৃষ্ঠা-৫৩
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islami_jindegi


